
ওসমানীনগর (সিলেট) থেক শেখ ফয়ছল আহমদ:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওর এলাকায় শুরু হয়েছে বোরো ধান রোপণের কর্মযজ্ঞ। উপজেলার নিরাইয়া, বানাইয়া, মুক্তারপুর, লেঙরা, রউনিয়া, কালাষাড়া, যুগনিগড়সহ সব কটি হাওরে এখন কৃষকদের ব্যস্ত সময় পার করছে। বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ কাজে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করছেন কৃষকেরা।
হাওর এলাকায় পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কৃষকেরা জমি প্রস্তুত করে বোরো চাষে নেমে পড়েন। কোথাও হাতে, কোথাও আবার যান্ত্রিক পদ্ধতিতে জমি চাষ ও চারা রোপণ করা হচ্ছে। মাঠে মাঠে কৃষকের কোলাহল, সেচের পানি আর সবুজ চারায় ভরে উঠতে শুরু করেছে হাওরের বিস্তীর্ণ জমি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ওসমানীনগর উপজেলায় মোট ৬ হাজার ৬ শত ৬০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ হাওরে চারা রোপণের কাজ অগ্রগতির পথে রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার উম্মে তামিমা বলেন,
উপজেলার বিভিন্ন হাওরে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ চলমান রয়েছে। কৃষকেরা আধুনিক ও উন্নত জাতের পাশাপাশি হাইব্রিড ধানের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। অনুকূল আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ থাকায় এবার বোরো ধানে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের নির্ধারিত টার্গেটের চেয়েও বেশি জমিতে আবাদ হতে পারে বলে আমরা আশাবাদী।
কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, উন্নত জাতের বীজ, সার ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন এবং সেচ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত হাওর এলাকায় পরিদর্শন করে চারা রোপণ, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যার বিষয়গুলো তদারকি করছেন।
প্রথমপাশা গ্রামের কৃষক আলাউর রহমান বলেন,
“আমরা এবার উন্নত জাতের হাইব্রিড বোরো ধানের আবাদ শুরু করেছি। সময়মতো পানি ও সার পেলে এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার ভালো ফলন পাব বলে আশা করছি। বোরো ধানই আমাদের পরিবারের বছরের প্রধান আয়ের উৎস।
কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও উন্নত জাতের ধান ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়লেও ফলন তুলনামূলক বেশি হচ্ছে। তাই ঝুঁকি নিয়েই তারা হাওর এলাকায় বোরো আবাদে ঝুঁকছেন।
কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের যৌথ প্রচেষ্টায় চলতি মৌসুমে ওসমানীনগরের হাওরাঞ্চলে বোরো ধান আবাদ সফল হবে এবং স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।