
ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা:
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের কালনীচর গ্রামে আধিপত্য ও জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৫ মে) দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনায় খালিদ মিয়া (৪৪) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি উত্তর কালনীচর গ্রামের তেরা মিয়ার পুত্র। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালনীচর বাজার সংলগ্ন একটি মার্কেটসহ বসতভিটার সম্পত্তি নিয়ে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল হক ছানু মিয়া এবং একই গ্রামের মৃত হামিদ উল্লাহর ছেলে জুনাইদ, মৃত রুকুম উল্লাহর ছেলে আকাইদ মিয়া সহ আরও কয়েকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে অতীতে একাধিকবার হামলা-মামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যাতে পুলিশসহ অনেকেই আহত হন। এসব ঘটনায় থানায় পৃথক একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।
এর মধ্যে একটি মামলায়, গত ১ মার্চ উভয় পক্ষের ২২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০০-১৫০ জনের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করলেও, ঘটনার মূল হোতাদের এখনো গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। মামলাগুলোর অনেক অভিযুক্ত আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গ্রামবাসীরা একাধিকবার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল, উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ, প্রবাসী ও স্থানীয় প্রবীণদের সমন্বয়ে একটি শালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে উভয় পক্ষকে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানানো হয়।
তবে শনিবার সকালে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন কালনীচর গ্রামের আলী হোসেন তার গরু চরানোর জন্য পাশ্ববর্তী জগন্নাথপুর উপজেলার অংশে গেলে, আব্দুল হক ছানু মিয়ার পক্ষের লোকজন তাকে মারধর করেন। এর জেরে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে খালিদ মিয়া মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ বিষয়ে ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, “ঘটনাস্থলটি জগন্নাথপুর থানার আওতাধীন।”
জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম সংঘর্ষে খালিদ মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০১৭ সালে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কালনীচর গ্রামে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। তখন পৃথক সংঘর্ষে দু’জন নিহত হন।
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় আবারও বড় ধরনের সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।