
চিন্ময় দাশ ঃ শাল্লা ( সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রায় এক বছর ধরে জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী (জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা) রাশেদুল ইসলামের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফায়ার সার্ভিস রোডে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের মূল পাইপ ফেটে যাওয়ার পর থেকে রাস্তায় পানি জমে থাকছে। এতে শাল্লা ইউনিয়ন ও বাহাড়া ইউনিয়নের হাজারো সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। রাস্তাটি কাদা-পানিতে ভরা থাকায় প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে মানুষকে ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি
স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। পানি ও কাদার কারণে তাদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
জরুরি সেবায় প্রতিবন্ধকতা
ফায়ার সার্ভিসের যানবাহন চলাচলেও মারাত্মক বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। যেকোনো অগ্নিকাণ্ড বা জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, “প্রায় এক বছর হয়ে গেল, রাস্তার এই অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিন কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। আমরা বারবার জনস্বাস্থ্য অফিসে অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি।”
আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ আজিজ মিয়া জানান, “শুধু আমাদের চলাচল নয়, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
কর্মকর্তারা সময়মতো কাজ না করলে আমরা আর কোথায় যাব?”
জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমাকে দু-এক দিন সময় দিন, আমি সমস্যাটি সমাধান করে দেব।” তবে অভিযোগ রয়েছে যে, এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো মেরামত কাজ শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, “আমি বিষয়টি জেনেছি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে আলোচনা করছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি
স্থানীয়রা দ্রুত পাইপ মেরামত করে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, জনস্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আর বাড়তে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে উচ্চতর কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চান তারা।
এই জলাবদ্ধতা শুধু যাতায়াতের সমস্যাই নয়, স্থানীয় পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। পানি জমে থাকায় মশা-মাছির উপদ্রব বেড়েছে, যা পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা তৈরি করছে।