
মহি উদ্দিন চৌধুরী সিলেট থেকে :-
————————–
আফতাব চৌধুরী। যাঁকে সিলেটের সবাই এক নামে চেনে। বরেন্য ব্যক্তিত্ব,বহুগ্রন্থের রচয়িতা, আলোকিত গুণীজন, সাংবাদিক কলাম লেখক, বৃক্ষপ্রেমিক ,সমাজকর্মীসহ বহু পরিচিতি যার ঝুলিতে যেমনি রয়েছে, তেমনি সর্বমহলেও ব্যাপক পরিচিতিও রয়েছে তাঁর।
বহুযুগ ধরে তিনি সিলেট শহরের উপশহর এলাকায় বসবাস করে আসছেন। উপশহর থেকে শুরু করে বৃহত্তর সিলেট জেলার বিভিন্ন স্থানে সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক পরিচিত। বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক কয়েকটি বইয়েরও লেখক তিনি। সর্বোপরি তাঁর উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে তিনি খুবই সাদামাটা এবং প্রচারবিমুখ ব্যক্তিত্ব। তাঁর পূর্বপুরুষ ভারতের অধিবাসী হলেও বহুযুগ আগেই তিনি বাংলাদেশে এসে সিলেটে বাড়ি নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন। বিয়ে করেছেন আমাদের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামে। তিনি তিন পুত্র সন্তানের জনক। ছেলেরা সবাই উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত। দুজন প্রবাসী, আর তৃতীয় জন দেশে ব্যাংকার।
এমনি অবস্থায় তাঁর স্ত্রীর অকাল মৃত্যু হয়। স্ত্রীর মৃত্যুতে তিনি কিছুটা ভেঙ্গে পড়লেও দমে থাকেননি। স্ত্রী বিয়োগান্তের পরও তিনি সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেকে আরও গভীরভাবে মনোনিবেশ করেন।
সিলেটের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ মসজিদ মাদ্রাসায় বৃক্ষচারা দান ও নিজে রোপণ করা এবং বিভিন্ন দান খয়রাতে তিনি নিজকে নিয়োজিত রেখে চলেছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্টান ও ব্যক্তিপর্যায়েও তিনি নানাভাবে পৃষ্টপোষকতা করে আসছেন।
অত্যন্ত স্বজ্জন, নির্লোভ, নিরহংকারী হিসেবে তিনি সকল মহলের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত। অতি সম্প্রতি তিনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট সার্কেলের বাগবাড়িস্থ কার্যালয়ের আঙিনা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনায় বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষচারা নিজ হাতে রোপণ করেছেন। এসব কর্মকাণ্ডই তাঁর নিজস্ব উদ্যোগ ও অর্থায়নেই করে থাকেন।
তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক ও মানব উপকারী বিষয়াদি নিয়ে নিয়মিত কলাম লিখে থাকেন। তাঁকে নিয়ে সিলেটের মানুষ গর্ববোধ করে। অনেককে বলতে শুনা যায় যে, ভবিষ্যতে আফতাব চৌধুরীর অবর্তমানে তাঁর মত লোক খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, এবং এমন কেউ তাঁর শুন্যতা পূরণ করতে পারবে কি না এ ব্যাপারে মানুষ সন্দিহান।
আমি আফতাব চৌধুরীর দীর্ঘায়ু কামনা করি। কামনা করি তিনি এভাবে সুস্থ শরিরে আমাদের মাঝে থেকে কাজ করে যান সমাজের, দেশ ও দশের।।