
শ্রীমঙ্গলে চার দিনের সাঁড়াশি অভিযান: ময়মনসিংহের চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার দুই আসামি আটক
স্টাফ রিপোর্টারঃ
ময়মনসিংহ ফুলবাড়ীয়া থানায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার পলাতক দুই আসামিকে মঙ্গলবার (২৫ আগষ্ট) শ্রীমঙ্গল থেকে আটক করেছে ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ। দীর্ঘ চার দিনের সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটকরা হলেন—মোঃ রাজু মির্জা (২২), পিতা মোঃ ফজলুল হক, মাতা মোছাঃ রাবিয়া খাতুন, সাং-সোয়াইতপুর এবং মোঃ সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল ওরফে সোহান মির্জা (২০), পিতা মোঃ সুরুজ মির্জা, মাতা শামছুন্নাহার। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়ীয়া থানার এলাকায়।
পুলিশের এক বার্তায় বলা হয়, গত ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে যেকোনো সময়ে ফুলবাড়ীয়া থানাধীন ৯ নম্বর এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর এলাকায় আবু রায়হান (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে ১৫ টুকরা করে চারটি ব্যাগে ভরে পরিত্যক্ত ময়লা ডাম্পিংয়ের ডোবার পানিতে ফেলে রাখা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ফুলবাড়ীয়া থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই দুই আসামি পলাতক ছিলেন।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিরা নিজেদের পোশাক-পরিচ্ছদ ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরিবর্তন করে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন।
এমনকি নিজেদের প্রকৃত নাম-ঠিকানা গোপন করে আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান করার তথ্যও পাওয়া যায়।
পরে ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, দুই আসামি শ্রীমঙ্গল এলাকায় অবস্থান করছেন। এরপর শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনসহ সম্ভাব্য এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়।
টানা চার দিন সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অবশেষে শ্রীমঙ্গল থেকে তাদের আটক করতে সক্ষম হয় ফুলবাড়ীয়া থানা পুলিশ।
পুলিশের দাবি, মামলাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
আটকের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।