
দেড় মাস পেরিয়েও সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার নেই, গুরুতর আহত আমজাদ হোসেন বাচ্চু এখনও চিকিৎসাধীন
স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের বহুল আলোচিত ১৯ মে’র সংঘর্ষে দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকদের ওপর নৃশংস হামলার দেড় মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বিচার কিংবা কার্যকর আইনি পদক্ষেপ হয়নি। এতে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আহত সাংবাদিকসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস চালকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে শ্রীমঙ্গল শহর কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতির সংবাদ সংগ্রহ, ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় হামলার শিকার হন অন্তত ৬ জন গণমাধ্যমকর্মী। এ ঘটনায় মোট অন্তত ১৬ জন আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে ছিলেন দৈনিক ভোরের ডাক-এর শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ও বাংলাদেশ প্রতিক্ষণ বার্তার সম্পাদক মো. আমজাদ হোসেন বাচ্চু।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। বেধড়ক মারধরে তার হাঁটুর হাড়ের একটি অংশ ভেঙে যায় (ফ্র্যাকচার) এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের সৃষ্টি হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার দিন আহত সাংবাদিকদের দেখতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান মৌলভীবাজার-৪ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না এবং শ্রীমঙ্গল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন। তারা আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
তবে সেই আশ্বাসের দেড় মাসেরও বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বিচার বা কার্যকর আইনি অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
গুরুতর আহত সাংবাদিক মো. আমজাদ হোসেন বাচ্চু বলেন, “সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আমি নৃশংস হামলার শিকার হয়েছি। আমাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার হাঁটুর হাড়ের একটি অংশ ভেঙে গেছে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে। এখনও আমার চিকিৎসা চলছে। দীর্ঘ সময় পার হলেও আমি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারিনি। স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে কষ্ট হয় এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অথচ এতদিন পেরিয়ে গেলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো বিচার বা কার্যকর আইনি ব্যবস্থা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন। অথচ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার পরও যদি বিচার না মেলে, তাহলে এটি শুধু একজন সাংবাদিকের নয়, পুরো গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা।”
এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহল অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তাদের মতে, সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে আইনের শাসন ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ আরও সংকুচিত হবে।
দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকের ওপর প্রকাশ্যে হামলার পরও দীর্ঘ সময় বিচার না হওয়ায় শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিক সমাজের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।”