
মৌলভীবাজারে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান বিতরণে প্রশ্ন, সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ তদন্তের দাবী
স্বচ্ছলদের নাম তালিকায়, প্রকৃত সাংবাদিক বঞ্চিত—তদন্ত দাবি
স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার:
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-এর উদ্যোগে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ২য় ও ৩য় কিস্তির অনুদান বিতরণকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলায় তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলার ১১ জন সাংবাদিককে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক প্রদান করা হয়। একই অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার মোট ৩৫৭ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের মাঝে প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।
তবে অনুদানপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সাংবাদিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত অসহায়, অসুস্থ ও আর্থিক সংকটে থাকা সাংবাদিকদের উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি এলাকায় স্বচ্ছল হিসেবে পরিচিত এবং তাদের কারো গুরুতর অসুস্থতা বা চরম আর্থিক সংকট নেই। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত কিংবা প্যারালাইজড হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা একাধিক প্রকৃত দুস্থ সাংবাদিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এতে জেলার সাধারণ সংবাদকর্মীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা মন্তব্য করেছেন,
“হতদরিদ্র ও দুস্থ সাংবাদিকের তকমা দিয়ে স্বচ্ছলদের অনুদান দেওয়া পেশাদার সাংবাদিকদের জন্য চরম অপমানজনক।”
অনেকে এই তালিকাকে ‘অদৃশ্য তালিকা’ হিসেবে উল্লেখ করে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এক ক্ষুব্ধ সাংবাদিক বলেন,
“যারা মাঠে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়েছেন, তাদের খোঁজ কেউ নেয়নি। অথচ আরামে থাকা কিছু মানুষকে দুস্থ সাজিয়ে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আরও একটি গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। “দৈনিক মুসলিম টাইমস”-এর শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি সাংবাদিক মোঃ আমজাদ হোসেন বাচ্চু বলেন,
“আমি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু তালিকায় আমার জায়গায় অন্য একজনের নাম দেওয়া হয়েছে, যাকে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা অফিসও চেনে না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও রহস্যজনক।”
তিনি আরও বলেন,
“তালিকায় যাদের নাম দেখেছি, তাদের অনেকেই আর্থিকভাবে স্বচ্ছল। তাহলে এই অনুদান কারা পাওয়ার যোগ্য এবং কীভাবে তালিকা করা হয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা জরুরি।”
সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া তালিকা প্রণয়ন করায় এ ধরনের অনিয়ম ও অসঙ্গতি সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে সরেজমিন যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থ ও অসুস্থ সাংবাদিকদের মাঝে অনুদান বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারের এই মানবিক উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।