
ঝলক দত্ত, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
অদম্য চেষ্টা ও আত্মবিশ্বাসই যে সাফল্যের চাবিকাঠি তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শ্রীমঙ্গলের মেধাবী শিক্ষার্থী বিশ্বপ্রিয় ভট্টাচার্য কাব্য। এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করতে না পারলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স ভর্তির মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে সে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পৃথকভাবে প্রকাশিত ফলাফলে কাব্য থিয়েটার বিভাগে দ্বিতীয় স্থান এবং ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন বিভাগে উনিশতম স্থান অর্জন করে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
শিক্ষাজীবনে কাব্য ধারাবাহিকভাবে মেধার পরিচয় দিয়ে আসছে। ২০২৩ সালে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০২৫ সালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়ে ৪.৫৮ জিপিএ পেয়ে এইচএসসি সম্পন্ন করে। পড়াশোনার পাশাপাশি আবৃত্তি ও ফটোগ্রাফিতে তার রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য; বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে সে নিজের সৃজনশীল প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছে।
পারিবারিকভাবেও কাব্য একটি সুপরিচিত সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে বেড়ে উঠেছে। সে ন্যাশনাল টি কোম্পানির প্রাক্তন চা বাগান ব্যবস্থাপক বিজয় কান্তি ভট্টাচার্য পুষ্পের পৌত্র। তার বাবা বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বাপন বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মৌলভীবাজার ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, দৈনিক কালের কণ্ঠের শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি এবং কণ্ঠধ্বনি আবৃত্তিচক্রের পরিচালক এবং কাব্যের মা তনুশ্রী গোস্বামী একজন গৃহিনী। এছাড়া সে শিক্ষক পরিবারেও সম্পৃক্ত কাকা সুরজিৎ ভট্টাচার্য ও কাকী মঞ্জুরী ভট্টাচার্য দু’জনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কাব্য জানায়, এইচএসসি পরীক্ষায় অল্পের জন্য জিপিএ-৫ না পাওয়াটা প্রথমে আমাকে হতাশ করেছিল। তবে ভেঙে না পড়ে আমি আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করি। নানা ব্যর্থতা পেরিয়েই আজকের এই সাফল্য। জিপিএ-৫ না পেয়েও নিজের পছন্দের বিষয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়াই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
ভবিষ্যৎ পথচলায় সফল হতে কাব্য সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছে।