
শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
মোঃ আমজাদ হোসেন বাচ্চু, বাংলাদেশ প্রতিক্ষণঃ
শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরের বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছে।

“বই পড়ি, মন গড়ি” এই স্লোগান নিয়ে ২১ জুলাই ২০২৬ থেকে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় শুরু হয়েছে শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসব-২০২৬। শ্রীমঙ্গলের মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও কাব্যসহ বিভিন্ন ধরনের বই পড়তে উৎসাহিত করতে উপজেলা প্রশাসন পৌঁছে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছে।
তিন ধাপে আয়োজিত শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্বে’ শিক্ষার্থীদের বই পড়তে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে আজ শ্রীমঙ্গলের পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রশাসক জনাব মো. জিয়াউর রহমান শ্রীমঙ্গলের ভৈরবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজনগর জে.এস.এস.আর. মাদ্রাসা, শ্রীমঙ্গল আনোয়ারুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসা, সেন্ট মার্থাস হাই স্কুল এবং ভূনবীর দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজে সরেজমিনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। আনন্দের জন্য বই পড়ার এই উৎসবে অংশ নিয়ে নিজেকে ও বিশ্বকে জানার জন্য বই পড়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের সমন্বয়ক, শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশ এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল।
উদ্বুদ্ধকরণ সমাবেশের দিনব্যাপী আয়োজনে পাঁচটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মুকুল পর্বের নির্ধারিত বইগুলো পড়ার আগ্রহ, উদ্দীপনা ও উৎসাহ সৃষ্টি করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. জিয়াউর রহমান বলেন, “আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রীমঙ্গলের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলাদাভাবে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বই পড়ার অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে নিতে চাই। বইয়ের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, আমাদের আগামী প্রজন্ম বই পড়ে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করবে।”
ভিন্নধর্মী এই আয়োজন শ্রীমঙ্গলের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাড়বাড়ন্তের এই সময়ে উপজেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলোয় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই শুরু হওয়া শ্রীমঙ্গল বইপড়া উৎসবের প্রথম ধাপ ‘মুকুল পর্বে’ শ্রেণিভিত্তিক নির্ধারিত ১৪টি বই বর্তমানে শ্রীমঙ্গলের প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী একযোগে পড়ছে। আগামী ১৭ আগস্ট এসব বইয়ের ওপর শ্রেণিভিত্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে শ্রীমঙ্গলের মাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব ৩৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে।
মুকুল পর্বের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জনকে নির্বাচন করা হবে। তারা দ্বিতীয় ধাপ ‘ফুল পর্বে’ নতুন বই পড়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে আবারও পরীক্ষায় অংশ নেবে। সেখান থেকে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণির সেরা ৩ জন উপজেলা পর্যায়ের চূড়ান্ত ধাপ ‘ফল পর্বে’ অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
চূড়ান্ত ধাপে নতুন বইয়ের ওপর পরীক্ষার মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেণিভিত্তিক সেরা ১০ জন নির্বাচিত হবে। এ ধাপে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক শিক্ষার্থী তিনটি পৃথক ধাপে ন্যূনতম তিনটি বই পড়বে।
এছাড়াও এবার যুক্ত হয়েছে উন্মুক্ত বিভাগ, যেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরের যে কোনো বয়সের মানুষ নিবন্ধন করে বইপড়া উৎসবে অংশ নিতে পারবেন।
উপজেলা প্রশাসন, শ্রীমঙ্গলের আয়োজনে এ উৎসবে সমন্বয় সহযোগী হিসেবে রয়েছে শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে উত্তরণ।