
—————————
মহি উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট থেকেঃ দুঃসহ যাত্রাপথের বেহাল ভোগান্তিতে সিলেটের মানুষ। এর থেকে শীর্ঘ উত্তরণের কোন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এসব যেন দেখার কেউ নেই।
ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা। যে কোন পদক্ষেপ নিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন তারা।
বহুদিন ধরেই সিলেটের সাথে চট্টগ্রামের রেলযোগাযোগ বেহাল। এরমধ্যে এখন ঢাকার সাথে সেই একই অবস্থা মাত্রাযুক্ত হয়েছে।
সড়কপথের যোগাযোগ তো সীমাহীন ভোগান্তির। সাম্প্রতিককালে সড়ক উন্নয়ন করতে গিয়ে জ্যাম ও শৃঙ্খলাবিহীন ভোগান্তির তীব্র যাতাকলে পিষ্ট সিলেটের বিভাগের মানুষ। যেখানে সিলেট-ঢাকা সড়কপথে ৬/৭ ঘন্টা লাগার কথা, সেখানে আজ ব্যয় হচ্ছে ১৫/১৬ ঘন্টা কখনও ১৭ ঘন্টা।
সড়কপথে আজ যাত্রীরা অসহায়, নিরাপত্তার অভাবসহ চরম ও সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হয়ে পথ চলতে হচ্ছে সাধারণ জনগণ তথা সিলেট অঞ্চলের মানুষদের।
সড়কপথ আজ চরম দুর্ভোগের নাম।
এদিকে রেলপথে টিকেটিং জটিলতা লেগে আছে। সিলেট-চট্টগ্রাম রেলের অসহনীয় এ অবস্থা পুরানো হলেও সিলেট-ঢাকায় এ অসহনীয় মাত্রা যুক্ত হয়েছে। আগে ঢাকার রেলপথে টিকেটিং বিড়ম্বনা তেমন ছিল না, এখন প্রকট হয়েছে। আগে সিলেট-চট্টগ্রাম ৬/৭ দিন আগে ছাড়া টিকেট পাওয়া যেত না। আর দুটি ট্রেন পাহাড়িকা ও উদয়ন, যা সকালে পাহাড়িকা হয়ে গিয়ে রাতে উদয়ন হয়ে ফিরে আসে।
এখন সিলেট-ঢাকা রেলপথে ৫/৬ দিন আগে ছাড়া টিকেট পাওয়া যায় না। এককথায় সিলেট-ঢাকা-চট্টগ্রাম টিকেট অব্যবস্থাপনা।
অনলাইনে পাওয়া দুরহ।
এদিকে সিলেট-ঢাকা-চট্টগ্রাম বিমানপথেও যাতনায় সিলেটবাসী। দুরত্ব অনুপাতে ভাড়ার কোন সামঞ্জস্য নাই। ২/৩ ঘন্টার ব্যবধানে একেক দিন একেক রেইটে ভাড়া আদায় করছে বিমান। এসব শুধু সিলেট যাত্রীদের।
সম্প্রতি ১২ অক্টোবর-২০২৫ তারিখে সিলেটের নুতন জেলা প্রশাসক সরোয়ার আলম বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে বসবেন বলে জানান। তিনি বলেন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভাড়া ওঠানামা করতে পারে, কিন্তু স্থানীয় সিলেট-ঢাকা রুটে সকালে ৩ হাজার বিকালে ১১ হাজার কেন হবে? এখানে কোন কারসাজি/সিন্ডিকেট কী না এনিয়ে তিনি বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে বসবেন।
গণমানুষের দাবি যেহেতু এখন সরকারে সিলেটের কোন প্রতিনিধি হিসাবে কেউ কথা বলছেন না, তাই সিলেটবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক অবিভাবক। তিনি সকল যোগাযোগপথের বিড়ম্বনা ঘুচাতে কাজ করবেন। অন্যথায় ক্ষোভের দাবানলে পুড়তে পুড়তে একসময় সিলেটবাসী’ই করনীয় নির্ধারনে এগিয়ে যাবে।।
১৩ অক্টোবর-২০২৫ খ্রিস্টাব্দ।