
ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ বিএনপি নেতা তাজ উদ্দিন তাজুর
স্টাফ রিপোর্টারঃ
শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত মো. তাজ উদ্দিন তাজু অভিযোগ করেছেন, সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে দল থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী শাসনামলে ইফতার মাহফিলে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের দোসররা বর্তমানে সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১২টায় স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তাজ উদ্দিন তাজু।
তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত ও পাওনা টাকা নিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজি মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তাকে সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এক ব্যক্তির একক সিদ্ধান্তে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের মিথ্যা অজুহাতে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তাজু বলেন, গত ১৩ আগস্ট তাকে বাদ দিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জেলা বিএনপির কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে উপজেলা বিএনপির কয়েকজন সদস্য বিষয়টি তাকে জানান। পরে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে ওই রেজুলেশন পাস করা হয়েছে এবং কাউকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ আগস্ট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন ও সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে তাকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। অথচ অব্যাহতির আগে তাকে কোনো শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তাও জানানো হয়নি এবং কোনো সাংগঠনিক শুনানিতেও তাকে ডাকা হয়নি।
তাজু দাবি করেন, জাতীয় নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত তিনি ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা সংসদ সদস্য হাজি মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনের দুই-তিন সপ্তাহ আগে দলীয় কিছু বিষয় ও ব্যক্তিগত আর্থিক দেনা-পাওনা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। এরপর থেকেই তাকে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে তাজু বলেন, ২০০৬ সালে প্রবীণ বিএনপি নেতা মরহুম এম এ সাইফুর রহমানের হাত ধরে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এরপর দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি দুইবার শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সর্বশেষ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে তিনি বহু মামলা, হামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৩০টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এসব মামলায় বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৭২০ দিন কারাবরণ করেছেন। তার পরিবারের সদস্যরাও একাধিক মামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তাজু বলেন, ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সিলেট আগমন উপলক্ষে শ্রীমঙ্গলে স্বাগত মিছিল বের করলে পুলিশ হামলা চালায়। এ সময় তাকেও গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হয় এবং তার পা ভেঙে যায়। পরে কারাগারে থাকা অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে তার চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে দলীয় কাউন্সিল ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়া ছাড়া ‘পকেট কমিটি’ করার চেষ্টা চলছে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা বিরোধের কারণে ইচ্ছেমতো কমিটি করা হলে নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
তাজু তার যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তকে অন্যায় ও অগঠনতান্ত্রিক দাবি করে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য জেলা বিএনপির প্রতি আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য হাজি মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার সহকারী জানান, তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে সংসদে ব্যস্ত রয়েছেন।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।