
এমপির নাম ভাঙিয়ে তদবিরের সুযোগ নেই, গাফিলতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ : এম নাসের রহমান
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ
মৌলভীবাজার-৩ (সদর–রাজনগর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান প্রশাসনের প্রতি কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, দায়িত্বে গাফিলতি ও সেবায় অবহেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। এ বিষয়ে তার অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

এমপির নাম ব্যবহার করে কেউ যেন অন্যায়ভাবে সুযোগ না নেয়—সে বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, তদবির বাণিজ্যের কোনো সুযোগ নেই। উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল। বক্তব্য দেন জেলা পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এমপি এম নাসের রহমান বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি সবসময়ই জনগণের সমর্থন পাবে।
তিনি আরও বলেন, নতুন সরকারের কার্যক্রমে ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজ অত্যন্ত গতির সঙ্গে সম্পন্ন করতে হবে এবং ফাইল দীর্ঘদিন বন্ধ রেখে দেওয়া বা নিষ্ক্রিয় থাকার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
নিজেকে ‘স্টেট ফরওয়ার্ড’ মানুষ উল্লেখ করে এমপি বলেন, তিনি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করেন। তবে কাউকে বিব্রত না করে বিষয়গুলো তুলে ধরার চেষ্টা করবেন। গাফিলতি ও অবহেলাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন বলেও জানান।
তিনি বলেন, কর্মকর্তারা যার যার দায়িত্ব অনুযায়ী কাজ করবেন; তিনি অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করবেন না। তবে উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে এলজিইডি, সড়ক বিভাগ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় জরুরি।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
গত মেয়াদে প্রায় আড়াইশ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান মূল্যে তা প্রায় এক হাজার ২০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ। সে সময় মৌলভীবাজার-রাজনগরে শিল্পকলা একাডেমি, সদর হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, সিসিইউ ও ডায়ালাইসিস সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় কিছু যন্ত্রপাতি অন্যত্র চলে যায়। সেগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এমপি বলেন, জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নে কর্মকর্তাদের কাজের স্বীকৃতি পেলে তার আপত্তি নেই। “আপনারা ক্রেডিট নিন, আমার কোনো অসুবিধা নেই—আমার কাজ সম্পন্ন হওয়াই মুখ্য,” বলেন তিনি।
প্রশাসনে তার নাম ভাঙিয়ে কেউ ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। “আমি এমপি সাহেবের লোক”—এভাবে পরিচয় দিয়ে কোনো অন্যায় সুবিধা নেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই বলে সতর্ক করেন তিনি। নিয়মের বাইরে কোনো প্রস্তাব দেবেন না এবং অযাচিত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপও করবেন না বলে জানান।
শহরের যানজট নিরসনে কুসুমবাগ পয়েন্টে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার এবং সড়ক দখলমুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।