1. admin@bangladeshpratikkhon.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে নানান আয়োজনের মধ্যে দিয়ে জাতীয় যুব দিবস পালিত সিলেটে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ সমাবেশে বক্তারা —- ওসমানী হাসপাতালের হামলাকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এইচএসসিতে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজের পাসের হার ৯৫.৩৩ শতাংশ যুক্তরাজ্যে গণদাবি পরিষদের কার্যকরী পরিষদের পরিচিতি ও ক্যাম্পেইন মিটিং অনুষ্ঠিত হয় আট বছর পর নির্বাচনী মাঠে চা শ্রমিকরা চা বাগানে ফিরছে ভোটের উৎসব শ্রীমঙ্গলে আইনি প্রক্রিয়ায় নিলামে কেনা জমির দখল নেওয়ার পাঁয়তারা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শ্রীমঙ্গলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ শ্রীমঙ্গলের সাবানা হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড শ্রীমঙ্গলে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ র্যালী ও আলোচনা সভা শ্রীমঙ্গলে ‘বাংলা কিউআর’ বাস্তবায়নে মতবিনিময়, ক্যাশলেস অর্থনীতিতে জোর

ইসলামী মাহফিল ও জুময়ায় বক্তৃতার গুরুত্ব

  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৪৫০ বার পঠিত

*************************
আমাদের দেশে ‘ইসলামী মাহফিল’ হলো ইসলাম প্রচার ও প্রসারের একটি সুন্দর মাধ্যম। যুগ যুগ ধরে ওলামায়ে কেরাম, পীর মাশায়েখ ও ইসলামী বক্তাবৃন্দ ইসলামের সুমহান বার্তা সাধারণ মানুষদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কিন্তু ইদানীং লক্ষ করা যাচ্ছে এই মাহফিলের নামে এক পক্ষ অপর পক্ষকে ঘায়েল, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, অপদস্ত ও কাদা ছোড়াছুড়ি করছে। নিজ আদর্শ ও মতের অমিল হ-লেই অন্যকে ‘ইহুদীদের দালাল’ বলার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন। কখনো তারা একতেলাফী ও কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তর্ক, বাহাস ও মুনাজারায় লিপ্ত হচ্ছেন। এ থেকে আম জনসাধারণ এক ধরনের ভুল ম্যাসেজ পেয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছে।
পারস্পরিক রেশারেশি, কাদা ছোড়াছুড়ি এমন পর্যায়ে পৌছেছে যে একে অপরকে কাফির, জাহান্নামী বলে ফতোয়া দিতেও দ্বিধাবোধ করছেন না। কোন কোন ক্ষেত্রে এই দুই দলের কর্মী- সমর্থকদের মধ্যে সালাম, সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক আত্মীয়তাও হচ্ছে না এবং তা যুগ যুগ ধরে চলছে।

এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা নিম্নরুপ
————————————————–
* কুরআনে এসেছে “ওয়া তাসিমু বি-হাবলিল্লাহি জামীয়াঁও ওয়া-লা তাফাররাক্বু” । অর্থ : তোমরা আল্লাহর রজ্জু (রশিকে) শক্তভাবে (দৃঢ়ভাবে) আঁকড়ে ধরো এবং পরষ্পর পৃথক(বিচ্ছিন্ন) হয়ো না । (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-১০৩)। তাহলে তাদের মধ্যে কুরআন-হাদীসের শিক্ষা ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক ও সমাজ জীবনে অনুপস্থিত। আর এই বিভক্তির সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে ইসলাম বিরোধীরা।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তা’আলা এই নোংরা ও ঘৃণিত কাজ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আর এসব কাজকে নিকৃষ্ট বলে ঘোষণাও দিয়েছেন। ফলে কোনো মুমিন কখনো এসব কাজে লিপ্ত হতে পারে না।

* আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগন, কোনো সমপ্রদায় যেন অন্য কোনো সমপ্রদায়কে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর কোনো নারীও যেন অন্য নারীকে বিদ্রুপ না করে, হতে পারে তারা বিদ্রুপকারীদের চেয়ে উত্তম। আর তোমরা একে অপরের নিন্দা করো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ উপনামে ডেকো না। ঈমানের পর মন্দ নাম কতই না নিকৃষ্ট! আর যারা তাওবা করে না, তারাই তো জালিম।’ (সুরা হুজরাত, আয়াত : ১১)

মহানবী (সা.) এসবের ব্যাপারে সতর্ক করে গেছেন। তিনি অন্যকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, ঠাট্টা-বিদ্রুপ করাকে মন্দ লোকদের কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এসব অভ্যাসকে মন্দ লোক চেনার মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির মন্দ প্রমাণিত হওয়ার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে সে তার অন্য মুসলমান ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করে।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪২১৩)
অতএব আমাদের উচিত, এসব মন্দ অভ্যাস ত্যাগ করা। অতীতে না জেনে এসবে লিপ্ত হয়ে থাকলে আল্লাহর কাছে তাওবা করা, যাতে পরকালে এর জন্য অনুতপ্ত হতে না হয়; যখন অনুতপ্ত হয়ে কিছু করার থাকবে না। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যাতে কাউকেও বলতে না হয়, হায় আফসোস! আল্লাহর প্রতি আমার কর্তব্যে আমি যে শৈথিল্য করেছি তার জন্য! আর আমি তো ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৫৬)।

এই কাজটি করতে করতে এক সময় বক্তা মিথ্যা ও অশ্লীল গালীর আশ্রয় নেন যা মুনাফিকের লক্ষণ। কুরআনে এসেছে “নিশ্চয় মুনাফিকদের স্থান হবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে।”- নিসা-১৪৫

এই ঘৃন্য কাজের জন্য মুসলমান সমাজ ইসলামের সঠিক স্পিরিট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এটা এক ধরনের Intellectual war বা বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ। আর এই জন্য আমরাই দায়ী।

হাদীসে এসেছে একজন সাহাবী রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে প্রশ্ন করলেন কোন কাজ সর্বোত্তম? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন মায়ের সাথে ভাল ব্যবহার, কারো উত্তরে বলেছেন জিহাদ করা, কারো উত্তরে বলেছেন নামাজ আদায় ও রোজা পালন , কারো উত্তরে বলেছেন জালিম শাসকের সামনে হক্ব কথা। অর্থাৎ যে প্রশ্নকারীর মধ্যে যে গুণের অভাব ছিল, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সেই গূণের তাগিদ করেছেন ।

বর্তমানে মাহফিলে শ্রোতারা ক্যান্সারের রোগী আর বক্তা ঔষধ দেন চুল কালো করার। তাই ইসলামী মাহফিল ও জুময়ার বাংলা বয়ানে ঐ ইসলামী নীতি ফলো করা একান্তই জরুরি।

(১) NGO ও সূদী লেনদেন এলাকা হলে- সুদের ভয়াবহতা ও কর্জের ফজিলত।
(২) পশ্চিমা সংস্কৃতি অধ্যুষিত এলাকা হলে অবাধ মেলামেশার শারিরীক ও মানসিক ক্ষতিসমুহ।
(৩) বাণিজ্যিক এলাকা হলে পণ্যে ভেজাল, ওজনে কম ও কৌশলে মূল্য বৃদ্ধির কূফল এবং কাজে ফাকি ও শ্রমিকের অধিকার।
(৪) প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হলে মুতা বিয়ে, স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকার অসুবিধা।
(৫) উচ্চ শিক্ষিত সমাজে হলে দাম্পত্য কলহের কারণ ও প্রতিকার।
(৬) পতিত এলাকা হলে বৃক্ষরোপন ও কৃষি কাজের গুরুত্ব।
(৭) অপরাধ প্রবন এলাকা হলে জুলুমের পরিণতি।
(৮) ধার্মিক এলাকা হলে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ রুপ, সমাজ জীবনে ইসলাম।
(৯) বণ্যা, নদী ভাঙ্গন ও খরা প্রবণ এলাকা হলে বিপদে অন্যের সাহায্য, পারস্পরিক সহযোগিতা।
(১০) বড় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে GF/BF কূফল ও সমাজে এর প্রভাব।

পরিশেষে বলতে চাই, রাসুলের যুগে কোন আধুনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ছিল না। সাহাবীরা যে যেটুকু শুনেছে তা আ’মল করেছে ও অন্য মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে বিদ্যুৎ গতিতে। আর ৪ জন প্রধান সাহাবী দুনিয়াবী মানুষের চোখে জ্ঞানে পরিপূর্ণ না হলেও ঐশীজ্ঞানে তারা ছিল দ্বীন ও দুনিয়াবী জ্ঞানের এক বিশা…..ল মহাসাগর। মহান আল্লাহ পাক আমাদেরকে দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।
—————————–
ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম
গবেষক ও কলামিস্ট, সিলেট
dr.1979sharif@gmail.com

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © বাংলাদেশ প্রতিক্ষণ ২০২৪
Theme Customized By Shakil IT Park