1. admin@bangladeshpratikkhon.com : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীমঙ্গলে নানান আয়োজনের মধ্যে দিয়ে জাতীয় যুব দিবস পালিত সিলেটে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ সমাবেশে বক্তারা —- ওসমানী হাসপাতালের হামলাকারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি এইচএসসিতে স্কলার্সহোম মেজরটিলা কলেজের পাসের হার ৯৫.৩৩ শতাংশ যুক্তরাজ্যে গণদাবি পরিষদের কার্যকরী পরিষদের পরিচিতি ও ক্যাম্পেইন মিটিং অনুষ্ঠিত হয় আট বছর পর নির্বাচনী মাঠে চা শ্রমিকরা চা বাগানে ফিরছে ভোটের উৎসব শ্রীমঙ্গলে আইনি প্রক্রিয়ায় নিলামে কেনা জমির দখল নেওয়ার পাঁয়তারা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন শ্রীমঙ্গলে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ শ্রীমঙ্গলের সাবানা হত্যা মামলায় চারজনের মৃত্যুদণ্ড শ্রীমঙ্গলে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ র্যালী ও আলোচনা সভা শ্রীমঙ্গলে ‘বাংলা কিউআর’ বাস্তবায়নে মতবিনিময়, ক্যাশলেস অর্থনীতিতে জোর

শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিকদের রক্তাক্ত সংঘাত

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬
  • ১৩০ বার পঠিত

আবুজার বাবলা, (মৌলভীবাজার) থেকে : পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে বছরের পর বছর চলছে মাইক্রোবাস চালকদের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘাত। ২০০০ সাল থেকে শুরু করে ২০২৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার এই সংঘাত রক্তাক্ত রূপ নিয়েছে, যাতে আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
সর্বশেষ গত ১৯ মে শহরের হবিগঞ্জ সড়কে মাইক্রোবাস ও সিএনজির মধ্যে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে সুত্রপাত। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শ্রমিকসহ অন্তত ২৬ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ৭ জন সাংবাদিক রয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স ও সদর হসপিটালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। সংঘর্ষের সময় শহরের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা, ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের যান চলাচল ৪ ঘন্টা স্থবির হয়ে পড়ে।
শ্রীমঙ্গলে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার, ষ্ট্যান্ড-রুট দখল, চাঁদাবাজিসহ তুচ্ছ ঘটনায় বছরের পর বছর সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে। যা সাধারণ মানুষের জান মালের ক্ষতির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।
গত ২০০০ সালের মে মাসে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের সাথে মাইক্রোবাস শ্রমিকদের সংঘাতের ঘটনা ঘটে। এ সংর্ঘষে ২০ জনের বেশী মানুষ আহত হয়। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০০৬ সালে সিএনজি-অটোরিকশা গ্রুপের সাথে প্রথম মাইক্রোবাস চালক গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধঁলেও এই দুই গ্রুপ ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১৯ মে একই ভাবে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সাধারণ শ্রমিকদের অভিযোগ- শুধু স্ট্যান্ড দখল নয়- চাঁদার টাকার বন্টন নিয়ে বিদ্যমান গ্রুপের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পানসী হোটেলে এক বর্ডার গার্ড সদস্যর সাথে মাইক্রোবাস চালকের কথাকাটকাটির জের ধরে ২০১৭ সালে ৫ জানুয়ারী বিজিবির সাথে পরিবহন শ্রমিকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির বর্ষনের ঘটনা ঘটে। মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে থাকা অর্ধশত যানবাহন ভাংচুর করা হয়। সবমিলে ৫০ জনের মতো মানুষ আহত হয় সেই ঘটনায়।
২০২৫ সালে এসে মাইক্রোবাস চালকরা আবারও চান্দের গাড়ি (ট্যুরিস্ট ভাড়ার গাড়ি) চালকদের সাথে সংঘর্ষে জড়ায়। এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হওয়া ছাড়াও সড়ক অবরোধ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ গত ১৯ মে মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিক্সা পরিবহন শ্রমিকরা রক্তক্ষয়ী ও মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এদিন বিকালে ব্যস্ততম চৌমহুনা সড়ক এলাকায় অবরুদ্ধ করে দুই গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে ২৬ জন আহত হয় যার মধ্যে ৭ জন স্থানীয় সাংবাদিক রয়েছেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সিএনজি অটোরিক্সা চালক মালিক সমিতির সভাপতি সালাউদ্দিন তুর্কি প্রতিপক্ষ মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (১২২৩) কে দায়ী করে বলেন, ‘শ্রীমঙ্গলে সকল সংঘাত সৃষ্টিতে এই শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যরা জড়িত। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ মে’র ঘটনায় তারা আমাদের শ্রমিক সদস্যসহ সাংবাদিকদের উপর আক্রমন চালিয়েছে। এতে আমাদের ৬ জন আহত হয়েছেন।
কার মাইক্রোবাস লাইটএস বাস-ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি: নং: ১২২৩) এর সদ্য সাবেক সেক্রেটারী মিছির আলী বলেন, ‘একটি বড় সংগঠনের ভেতর ভাল মন্দ নানা প্রকৃতির মানুষ থাকে। এই মন্দ প্রকৃতির মানুষরা এসব অপকর্মে লিপ্ত থাকে। এজন্য পুরো একটি সংগঠনকে দায়ী করা ঠিক না। সংঘর্ষের ঘটনাটি এখন স্থানীয় এমপি সাহেব মিটমাট করছেন’ বলে তিনি জানান।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি জাহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় দেড়শ’ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমরা সিসি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় তথ্য সংগ্রহ করে দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে দিয়েছি।’
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জিয়াউর রহমান বলেন- ‘১৯ মে শহরে যারা বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’
শ্রীমঙ্গলে এসব সংঘাতে সাধারণ মানুষ ও পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাস্তা অবরোধ, যানজট এবং আতঙ্কের কারণে পর্যটন শিল্পেরও ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বারবার এ ধরনের ঘটনা শ্রীমঙ্গলের শান্ত পর্যটন ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© স্বত্ব সংরক্ষিত © বাংলাদেশ প্রতিক্ষণ ২০২৪
Theme Customized By Shakil IT Park