
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট:
গোয়াইনঘাট উপজেলার ০২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইজারা প্রদানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে চাঞ্চল্যকর সহিংসতা, যা পুরো এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্যসহ অন্তত ৬-৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং প্রায় ৫৫ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারী কামাল উদ্দিন (৪৫), যিনি স্থানীয় ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে প্রায় চার বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন,গোয়াইনঘাট থানায় তার লিখিত অভিযোগে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক স্মারক নং প/জা/ইউপি/২০২৬/৪২ অনুযায়ী বালি পরিবহনকারী যানবাহন ও নৌযানের ওপর উন্নয়ন কর আদায়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ দুপুর ১টায় দরপত্র গ্রহণ ও খোলার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
ঘটনাস্থলে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে দরপত্র মূল্যায়ন শেষে চম্পকনগর এলাকার বাসিন্দা শাহরিয়ার তামিম উজ্জ্বল সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ৬১ লাখ টাকায় ইজারা লাভ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ ঘোষণার পরপরই পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হতে থাকে।
অভিযোগে বলা হয়, বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে মামুন পারভেজের নেতৃত্বে রমজান আলী, কবির আহমদ, ফারুক আহমদ, কাওছার আহমদ, নাহিদ আহমদ, মাহিন আহমদসহ আরও ১০-১২ জন ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে। এসময় তারা উপস্থিত লোকজনকে জোরপূর্বক সরিয়ে দিয়ে কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেয় এবং ভেতরে অবস্থানরতদের ওপর অতর্কিত হামলা করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান ।
হামলাকারীরা হকিস্টিক, লোহার এঙ্গেল, স্টিলের পাইপ ও কাঠের মোটা রুল দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এতে সর্বোচ্চ দরদাতা শাহরিয়ার তামিম উজ্জ্বল গুরুতর আহত হন। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে ইউপি সদস্য কামাল উদ্দিনকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তার মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করা হলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। একইভাবে তার হাত ও পায়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়।
ঘটনার সময় সুহেল আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, শরীফ উদ্দিন ও এনাম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে তারাও আহত হন।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো—হামলার একপর্যায়ে হামলাকারীরা শাহরিয়ার তামিম উজ্জ্বলের কাঁধে থাকা ব্যাগ থেকে নগদ ৫৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। এ সময় তারা আহতদের চেপে ধরে রেখে টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।এমনকি এঘটনার পর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান পলাতক রয়েছেন বলে একাধিক সুত্রে জানা য়ায়।
স্থানীয়দের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে আহতদের উদ্ধার করে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ ভর্তি করা হয়। সেখানে কামাল উদ্দিন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগের আগে পুনরায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ইজারা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই বিরোধ ও উত্তেজনা চলছিল। প্রভাব বিস্তার ও আর্থিক স্বার্থকে কেন্দ্র করেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অনেকেই ধারণা করছেন।
এ ঘটনায় কামাল উদ্দিন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, পুরো পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি…..