
স্বাধীনতার দিনে এমন অবহেলা! শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাতেও জাতীয় পতাকা ওড়ছে
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাতেও ওড়ে জাতীয় পতাকা, জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্টাফ রিপোর্টারঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষের অবহেলায় রাতেও জাতীয় পতাকা ওড়তে দেখা গেছে। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে টানানো পতাকা অন্ধকার রাতেও উড়তে দেখা যায়। এতে আইন অমান্য করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সরেজমিনে সন্ধ্যা ৭টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা গেছে পাইপের মাথায় ঝুলছে বাংলাদেশের পরিচয়ের প্রতীক লাল-সবুজের পতাকা। জাতীয় পতাকা অবমাননার এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় হাসপাতালে এসে পতাকার স্ট্যান্ডে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখে বিষয়টি লোকজনকে জানান।
স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের রাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত থাকা অবমাননার শামিল। আইন আনুযায়ী সন্ধ্যার আগে পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই রাতে পতাকা টানানো যাবে না। রাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলিত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ব্যবসায়ী রুহুল আমিন, সমাজকর্মী আশিকুর রহমানসহ সচেতন নাগরিকরা বলেন ৩০ লাখ শহীদ ও ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা পেয়েছি। হাসপাতালে রাতের বেলা জাতীয় পতাকা উড়ছে এটা কর্তৃপক্ষের অবহেলা। এ পতাকার অবমাননা মেনে নেওয়া যায় না।
সচেতন মহল বলেন, লাল-সবুজ দুই রংয়ের এই পতাকার জন্য কত প্রাণ আর কত মা-বোন ইজ্জত দিল আর স্বাধীনতা দিবসে সেই পতাকার অবমাননা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল বলে মনে করেন। প্রশাসনের কাছে সুষ্টু বিচারের দাবি করেন তারা।
এব্যাপারে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক মেডিকেল অফিসার ডা. সানজিদা সন্ধ্যা ৭টায় বলেন, পতাকা ওড়ার বিষয়ে এইমাত্র ইনফরমেশন পেয়েছি। এক্ষুণি নামানো হবে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি এইমাত্র জানতে পেরেছি। খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সরকারি বিধি অনুযায়ী, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা যাবে। সন্ধ্যার আগেই পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে। বিধান অমান্যকারীকে জাতীয় পতাকা বিধিমালা-১৯৭২ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী ১ বছরের কারাদন্ড বা ৫০০০ টাকা জরিমানা বা উভয় শাস্তির বিধান রয়েছে।