*************************************
আমরা প্রতিদিন কম বেশি ৪০ বার প্রতি রাকাতে পড়ি "ইয়্যাকা না'বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন"। "আমরা তোমারই গোলামী করি আর তোমার কাছেই সাহায্য চাই।" তাহলে গোলামী বা দাসত্ব শব্দটি জানা, বোঝা ও মানা একান্তই জরুরি।
(১) আঃ রহমান সাহেব লন্ডন থেকে ৩ মাসের জন্য দেশে এসেছেন বড় শীত কাটানোর জন্য। তিনি একজন ড্রাইভার নিয়োগ দিয়েছেন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরি, বন্ধু বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা করার জন্য। ড্রাইভারকে নিয়েছেন অল টাইমের জন্য, যে কোন দিন, যে কোন সময়, ( 24/7) যে কোন স্থানে তিনি যাবেন। ড্রাইভারকে মোটা অংকের মাসিক বেতনের ব্যবস্থা করেছেন। এখানে ড্রাইভারের কোন স্বাধীনতা নাই। তার ডাকে দেরীতে সাড়া দেওয়ায়, গাড়ীর তেল চুরি, অযথা ভাউচার ইত্যাদি কারণে ইতোমধ্যে ৩ জন ড্রাইভার বিদায় হয়েছে। শেষমেশ একজন দক্ষ ও দায়িত্ববান ড্রাইভার সফলভাবে নির্ধারিত সময় পার করেছেন, রহমান সাহেব অতিরিক্ত তাকে বখশিষও দিয়েছেন।
(২) আঃ করিম সাহেব একটি ব্যাংকের Executive Officer হিসেবে কর্মরত। তার গাড়ীর জন্য সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত একজন ড্রাইভার নিযুক্ত আছে। ড্রাইভার কোন দিন একটু লেট করে, কখনো রাফ চালায়, কখনো তার মর্জি মত চলে। এখানে করিম সাহেবের তেমন কিছু করার নেই।
(৩) আঃ কুদ্দুস সাহেব আজ বিদেশ থেকে আসলেন। বিমানবন্দর থেকে একজন ড্রাইভারের সাথে বারগেনিং করে ৩ হাজার টাকায় বাসায় আসলেন। পথে চালকের অদক্ষতা বোঝা গেল, বলেও লাভ হয়নি। ধুমপান নিষেধ করায় আমলে নেয়নি, নিষেধ অমান্য করায় জ্যামে পড়েছেন।
এখানে (১) এ বর্ণিত আঃ রহমান চালকটি অত্যন্ত সফল হয়েছে। সে মালিকের ১৬ আনা গোলামী করেছে বেতন-ভাতা সহ অতিরিক্ত পুরস্কারও পেয়েছে। এটাই গোলামী বা দাসত্ব। আল্লাহ ও বান্দার সম্পর্ক এমনই হওয়া উচিত।
এখানে (২) এ বর্ণিত আঃ করিম চালকটি কিছুটা মনগড়া চলেছে তবে তার মালিক ১২ আনা খুশী ছিল। আমাদের দেশের অধিকাংশ আলিম এ ধরনের। নিজের সুবিধামত চলা, কিছু অমান্য করা।
এখানে (৩) এ বর্ণিত আঃ কুদ্দুস চালকটি ১৬ আনা মনগড়া। ইচ্ছা হলে ভাড়ায় যায়, না হলে না। মালিকের কথা শোনেনি। শুধুমাত্র বাসায় পৌছে দিয়েছে । অধিকাংশ সাধারণ মানুষ এই ধরনের।
এ প্রসংগে আল কুরআনে আল্লাহ বলেন "তোমরা কি কুরআনের কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ অস্বীকার (মানবে না) করবে? যারা এমন করবে তাদের জন্য দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা আর আখিরাতে রয়েছে কঠোরতর আযাব।-- সুরা বাকারা, ৮৫।
উপরোক্ত আলোচনায় (১) কে গোলাম (২) কে চাকর ও (৩) কে ভাড়াটে লোক বলা যায়। আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক একমাত্র গোলামের মত হওয়া উচিত এবং প্রতি রাকাত নামাজে আমরা এই স্বীকৃতি দিচ্ছি। আসলে আমরা ইসলাম ততটুকু পালন করতে চাই যতটুকু পালন করলে পরিবার, সমাজ ও দেশের পক্ষ থেকে কোন বাধা বা অভিযোগ থাকে না। মানুষকে নয়; আল্লাহকে ভয় করুন। যে আল্লাহকে ভয় করে সে কোন মাখলুককে ভয় করে না। আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে ইসলামের সঠিক বুঝ দান করুন। ফুলের মত সুন্দর হোক আমাদের সবার জীবন। আমীন।
-----------------------
ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম
গবেষক ও কলামিস্ট, সিলেট।
dr.1979sharif@gmail.com