ঝলক দত্ত, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তাঁরা আলোর পথ দেখান, স্বপ্ন দেখতে শেখান এবং শিশুদের জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মহান শিক্ষকদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সেন্ট মার্থাস কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ের হলরুমে অভিভাবকদের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অভিভাবক নাজমা খানম ও স্বর্ণা চক্রবর্তী সঞ্চালনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুপ্রীতি কস্তা, আরএনডিএম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। করেন।
অনুষ্ঠানে প্লে, নার্সারি ও কেজি শ্রেণির ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা দলীয় গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিবেদন করে। শিশুদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় বিদ্যালয়ের হলরুমে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন ও আবেগময় পরিবেশ। তাদের সরল-স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশনা উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের মুগ্ধ করে।
প্রধান শিক্ষক সুপ্রীতি কস্তা তাঁর বক্তব্যে বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক শুধু পাঠদান ও শিক্ষাগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভালোবাসা, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের একটি সুন্দর বন্ধন। তিনি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষকদের সম্মান করা, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করাই শিক্ষকদের প্রতি সবচেয়ে বড় সম্মান।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব শিক্ষক দিবসের মতো আয়োজন শিশুদের মধ্যে শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে এবং তাদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে আয়োজন ও পরিচালনায় সহযোগিতা করার জন্য তিনি অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, শিক্ষক দীপালী দে, ঝরনা ম্যাডাম, মেরিলি ম্যাডাম ও মৌ ম্যাডাম।
শিক্ষকরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, একটি শিশুর জীবনে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার শিশুর প্রথম শিক্ষালয় হলেও বিদ্যালয়ে শিক্ষক তার জ্ঞান, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। একজন আদর্শ শিক্ষক শুধু ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীকে প্রস্তুত করেন না; বরং তাকে সৎ, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে নিরন্তর কাজ করেন।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশুদের অংশগ্রহণ ছিল বিশেষ আকর্ষণ। কখনো গানের সুরে, কখনো নৃত্যের তালে আবার কখনো ছন্দময় কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা প্রকাশ করে শিক্ষকদের প্রতি তাদের ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা।
অভিভাবকরা বলেন, শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে শিক্ষকদের মর্যাদা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন আরও বড় পরিসরে করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।