
শ্রীমঙ্গলে অর্থ আত্মসাৎ, জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিকুল চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, প্রতারণা ও মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন কাতার প্রবাসী সুব্রত চক্রবর্তী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তার ভাই সুকান্ত চক্রবর্তীকে ফ্রান্স পাঠানোর নামে বিকুল চক্রবর্তী প্রায় ৩ লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন শিক্ষা ও সনদ তৈরির কথা বলে আরও কয়েক দফায় লক্ষাধিক টাকা নেন। তবে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাল কাগজপত্রের কারণে ভিসা বাতিল হলে শর্ত অনুযায়ী টাকা ফেরত চাইলে শুরু হয় টালবাহানা।
সুব্রত চক্রবর্তী আরও অভিযোগ করেন, গত ১০-১১ বছর ধরে প্রবাসে থাকার সুযোগে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড—যেমন শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা, ইফতার মাহফিল, ঈদ পূর্ণমিলনী ইত্যাদির নামে তার কাছ থেকে বিপুল অর্থ গ্রহণ করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। একইভাবে বিদেশ থেকে আনা স্বর্ণের চেইন, মোবাইল ফোন ও ডিএসএলআর ক্যামেরার মূল্যও পরিশোধ করা হয়নি। সব মিলিয়ে প্রায় ১৩-১৪ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, বারবার টাকা ফেরতের দাবি জানালেও কোনো সমাধান হয়নি। বরং প্রবাসে থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরলে স্থানীয়ভাবে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এমনকি এক পর্যায়ে “টাকা দেব না, যা পারেন করেন”—এমন বার্তাও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দেশে ফিরে টাকা দাবি করলে তার বাসায় হামলা ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন সুব্রত চক্রবর্তী। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে পুলিশি হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি সংরক্ষণ, সাংবাদিক সংগঠন ও প্রেসক্লাবের নাম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে তার কাছ থেকে অনুদানের নামে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এমনকি তার ভাইকে ভারতের কৈলাশ শহরে নিয়ে গিয়ে সম্মাননা ক্রেস্ট দেওয়ার নামেও ২৫ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন তার মা আরতী চক্রবর্তী। তিনি একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা হিসেবে তার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত ও প্রতারণার বিচার দাবি করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিকুল চক্রবর্তী বলেন—“এটা কি মগের মুল্লুক নাকি? ডকুমেন্টস আমি দেইনি। আমাকে ফাঁসাতে এসব সাজানো হয়েছে। তার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”