শ্রীমঙ্গলে অঙ্গীকারনামা দিয়ে মাদক ছাড়ার ঘোষণা মাদক কারবারির
স্টাফ রিপোর্টারঃ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় মাদক নির্মুলে প্রশাসনের তৎপরতার পাশাপাশি শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে সচেতনতামুল নানা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়াও মিলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি তাঁদের আত্মসমর্পণেও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। মাদক থেকে সুস্থ জীবনে ফিরে আসা ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রশাসনসহ সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেয়া হচ্ছে।
এদিকে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখা গেল শ্রীমঙ্গল উপজেলায়। প্রশাসন, স্থানীয় এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য সালিশী ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক ব্যক্তি লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে চিরতরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
লিখিত স্বীকারোক্তিতে তিনি স্পষ্ট জানান, ভবিষ্যতে তিনি কিংবা তাঁর পরিবারের কোনো সদস্য যদি পুনরায় মাদকের সাথে জড়িত হন, তবে স্থানীয় এলাকাবাসী ও গণ্যমান্য সালিশী ব্যক্তিদের যেকোনো সিদ্ধান্ত তিনি সানন্দে মেনে নেবেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মহিবুল্লাহ আকন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মোসাব্বির আল মাসুদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মোঃ তাজ উদ্দিন তাজু প্রমুখ।
মাদক ব্যবসা ছেড়ে নতুন জীবন শুরু করা ইমদাদুর রহমান বলেন, মাদক আমার সুন্দর জীবন কেড়ে নিয়েছিল। তাই আমি মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা ছেড়ে প্রশাসন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে অঙ্গীকার করছি অন্ধকার জীবন ছেড়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবনে ফিরে আসার।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মোঃ তাজ উদ্দিন তাজু বলেন, মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ সমাজকে বাঁচাতে প্রতিটি এলাকায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শুধু আইনি ব্যবস্থা নয়, এমন সামাজিক চাপ ও সচেতনতাই পারে সমাজকে পুরোপুরি মাদকমুক্ত করতে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. মোসাব্বির আল মাসুদ বলেন, আমি ২০১১ সাল থেকে ব্যক্তিগতভাবে মাদক বিরোধী আন্দোলন করে আসছি। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নাগরিক পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে সবাইকে সাথে নিয়ে মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক নতুন সামাজিক আন্দোলনের ডাক দিয়েছি। সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীমঙ্গলের তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে মাদকের নেতিবাচক প্রভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সচেতন নাগরিক ও সমাজসেবীদের সাথে নিয়ে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি। কিছু দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে মাদক প্রতিরোধে প্রশাসনসহ সকল নাগরিককে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাই।
গত শনিবার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নের বনগাঁও এলাকায় গিয়ে মাদক বিরোধী সচেতনামুলক সভা করি। এসময় এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি ইমদাদুর রহমানকে মাদক ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসার আহবান করি। যদি মাদক ব্যবসা বন্ধ না করে তাহলে গ্রামবাসীকে সাথে নিয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেই। অবশেষে সেই মাদক কারবারি আমাদের আহবানে সাড়া দিয়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে মাদক ছেড়ে সুস্থ জীবনের ফিরে আসার অঙ্গীকার করে। আমরা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে মাদক ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসা বেকার তরুণ-যুবক ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। এতে স্থানীয় প্রশাসনও আমাদের উদোগে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি নির্মূলে শুধু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। মাদকবিরোধী অভিযানে তিনি গণমাধ্যম কর্মীদেরও সহযোগিতা কামনা করেন।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। মাদক ব্যবসা ও সেবন ছেড়ে কেউ সুস্থ জীবনে ফিরে আসলে প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে।
সামাজিকভাবে তাদের হেয় না করে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ সকলের সমন্বয়ে কাজ করলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা যাবে।