
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: সিলেট এম সি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ইং সনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম এস এস ডিগ্রি লাভ করে চাকুরি জিবন শুরু করেন সিলেট জেলার ভাদেশ্বর মহিলা ডিগ্রি কলেজে অধ্যাপনা দিয়ে । কিন্তু বেশি দিন আর কলেজে চাকুরী করেননি তিনি । তিন বছরের অধ্যাপনা শেষে ব্যাংকার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন। প্রথমে সরকারী ব্যাংক জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯৮ সালে চাকুরী জিবন শুরু করলে পরবর্তীতে ২০০০৮ সালে বেসরকারি ব্যাংকে যোগদান করেন।
দীর্ঘ ২২ বছর সরকারী ও বেসরকারি ব্যাংক এক্সিম ব্যাংক ও ডাচ্ বাংলা ব্যাংক পিএলসিতে সিলেটের বিভিন্ন শাখায় ব্যবস্হাপক এবং একজন নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি । অবশেষে ২০১৯ সালে চাকুরী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে পাড়ি জমান মার্কিন মুল্লুকে স্বপরিবারে । কিন্তু পড়ালেখার প্রতি তাঁর নেশা কর্মজীবনের পাশাপাশি তাঁকে আবার শিক্ষা জীবনে ফিরিয়ে নেয় । প্রায় ৪০ হাজার ডলারের স্কলারশিপ নিয়ে পিএইচডি করার অফার পান সুইজারল্যান্ডের ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজম্যান্ট এন্ড টেকনোলজি (ইআইএমটি )থেকে ।সেখান থেকে এ বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন তিনি ।
আমেরিকায় এসে এ দেশের একটি বৃহৎ সরকারী এনজিও “ HELP USA SOCIAL SERVICE INC. এ একজন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন ২০২০ সালের জুলাইয়ে । কাজ করছেন মাধকাশক্ত ও হতাশা গ্রহস্ত মানুষদেরকে নিয়ে । কাজের পাশাপাশি সমাজে পিছিয়ে পড়া এই সকল মানষিক সমষ্যায় জর্জরিত মানুষের জীবনাচার নিয়ে ও অভিজ্ঞ হয়ে উঠেন তিনি । পরিকল্পনা করেন এই সব হতাশাগ্রস্হ , সমাজের অবহেলিত পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনাচার নিয়ে তিনি গবেষণা শুরু করবেন ।
যেই চিন্তা সেই কাজ , গবেষণার বিষয় হিসেবে বেঁচে নেন কাউন্সিলং কে । তার গবেষণার টপিক্স ছিলো “ Different in Approach to Reciving Counseling Among the Young and Old Psychiatric Patients. “ এই সংস্থাটির পুরো আমেরিকা জুড়ে কয়েক শত আশ্রয় কেন্দ্র রয়েছে । তিনি কাজ করেন এই সংস্হার একটি আশ্রয় কেন্দ্রে যেখানে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ বসবাস করেন। তিনি তার গবেষনার উপাত্ত সংগ্রহের জন্য বেঁচে নেন এই তিন শতাধিক মানষিক ও মাধকাশক্ত লোকদেরকে ।
প্রায় ২ বছর তাদের সাথে কাজ করে ডাটা সংগ্রহ করেন সার্ভে ও ইন্টারভিউ গ্রহনের মাধ্যমে ।
ডাটা সংগ্রহ শেষে থিসিস জমা দেন ২০০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে । আর এ বছরের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার থিসিস অনুমোদনের পর তাকে ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। তিনি তার এই গবেষণায় প্রমান করতে সক্ষম হয়েছেন যে , একই সাথে সকল বয়সের মানসিক ও হতাশাগ্রস্ত রোগীদের চিকিৎসা কিংবা থেরাপি না দিয়ে , যদি বিভিন্ন বয়স গ্রোপে ভাগ করে তাদেরকে থেরাপী কিংবা চিকিৎসা দেওয়া যায় তাহলে ফলাফল অধিকতর ভালো পাওয়া যেতে পারে , যেটি তার গবেষণার বিষয় ছিলো এবং তিনি তার গবেষণায় সেটি প্রমান করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
ডক্টরেট শেষে শুরু করেন তার গবেষণা লব্দ জ্ঞান থেকে বই প্রকাশের কাজ । বইয়ের বিষয়বস্তু হিসেবে বেঁচে নেন কাইন্সিলিং কে । ৩৫০ পৃস্টার এই একাডেমিক বইটিতে তিনি কাউন্সিলিং বিষয়ে গবেষণার ভিত্তি , প্রকারভেদ , পর্যালোচনা ও তাত্বিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। তাঁর এই বইটি বিশ্ব বিখ্যাত অনলাইন প্লাটফর্ম , অ্যামাজন, গুগল , আপেল , বার্ন্স এন্ড নবেল , লুলু , আমেরিকা ও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বই যোগান দেওয়া প্রকাশনা সংস্হা “ইনগ্রাম স্পার্ক “বইটি প্রকাশ করেছে যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপি বিক্রি হচ্ছে।বর্তমানে তিনি এই সংস্হার একজন Mental Health Researchers হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন।
একজন গবেষক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সামাজিক , সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিমন্ডলে রয়েছে তার দেশ ও প্রবাসে ব্যাপক পরিচিতি ।
এছাড়াও আমেরিকার এই বেসরকারি সংস্থায় কাজের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের ব্যাপক অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কাজ শুরু করেছেন এবং একটি গবেষণাধর্মী প্রজেক্ট বুক লিখা প্রায় শেষ করে ফেলেছেন যার শীঘ্রই প্রকাশনা উৎসব নিউইয়র্কে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি ।