-------------কলাম
প্রায় পৌনে তিন লাখ জন অ্যধ্যুষিত
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা। প্রাচীন জনপদের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম স্থলপথ হলে অনেক বছর আগে তা ছিল না। এক সময় এই এলাকা যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম ছিল নদী পথ ।
এই এলাকার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কুশিয়ার নদী পথে পাল তোলা নৌকা থেকে শুরু করে ছোট বড় অসংখ্য জাহাজ-স্টিমার ভারত পর্যন্ত চলাচল করতো।
বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ক্রমবর্ধমান ভাঙ্গন, ও অপরিকল্পিত নদী সংস্কার করায় ভরাট হয়ে এই ক্রমশ: নাব্যতা হারিয়ে ফেলে। এতে একদিকে বর্ষায় বন্যা গ্রীষ্মে খরায় নদীটি দিন দিন নৌযান চলাচলে উপযোগীতা হারিয়ে ফেলে। এতে করে জনসাধারণের যোগাযোগের জন্য একমাত্র মাধ্যম হয়ে উঠে সড়কপথ। অন্যদিকে বিয়ানীবাজারের পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ কাঠামো থাকলেও বিয়ানীবাজারে কোন রেলপথ নেই। বর্তমানে মানুষজনের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থলপথ। সিলেট-চারখাই-শেওলা সড়কটি বিয়ানীবাজার এবং নিকটবর্তী গোলাপগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও বড়লেখা উপজেলার অধিবাসীদের বিভাগীয় শহর সিলেটের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এছাড়া
সিলেট চারখাই-শেওলা- বিয়ানীবাজার
সড়কপথে প্রতিদিন হাজারো মানুষ বড়লেখা জুরি উপজেলা হয়ে মৌলভীবাজার ঢাকায় যাতায়াত করছেন।
এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত একনেক এর সভায় সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নামে একটি পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এনিয়ে বিয়ানীবাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করতে থাকে প্রকল্প বাস্তবায়নের। এতে সিলেট থেকে সুতারকান্দি পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ককে ৪ লেনের মহাসড়কে উন্নীত করণের লক্ষ্যে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। যার মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ ২ হাজার ৮৮৬ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের অধীনে অতিরিক্ত ২টি সার্ভিসলেন, ৩টি সেতু, ৩১টি কালভার্ট, ১টি ফ্লাইওভার, ৪টি ফুট ওভারব্রিজ, ৬টি ওভারপাস, ২টি আন্ডারপাস, ৭টি ফুটপাত ও ১টি টোলপ্লাজা স্থাপনের কথা প্রকল্পে প্রস্তাব করা হয়েছে। বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর উপর শেওলা সেতুর স্থলে ৬০ মিটার দীর্ঘ, ২১ মিটার প্রশস্ত, ৪০ মিটার উঁচু নতুন একটি সেতু নির্মাণের নকশা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এই প্রস্তাবে। সম্পূর্ণ কর্ম পরিকল্পনা সম্পাদনের কথা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ নির্ধারণ হয়। ২৪৭.১৩ একর ভূমিও অধিগ্রহণের লক্ষ স্থির করা হয়। গৃহীত প্রকল্পটির কাজ ২০২৩ সাল থেকে শুরু হলেও জমি অধিগ্রহণের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় এবং মহাসড়ক নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে প্রশ্ন উঠায় নির্ধারিত সময়সীমার মাঝামাঝি এসে এখন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশে বিদ্যমান ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে বর্তমানে চালু থাকা ১৬টির অন্যতম শেওলা স্থলবন্দরটি সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়কের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। এই স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রধানত সিমেন্ট রপ্তানি হয়ে থাকে। তাছাড়াও প্রাণ ও সজীব গ্রুপের পণ্য সামগ্রী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুতারকান্দি সীমান্ত পথ দিয়ে রপ্তানি হয়। তার বিপরীতে ভারত থেকে পাথর, চুনাপাথর ও ফল আমদানীর রুট হচ্ছে শেওলা স্থলবন্দর। প্রতিদিন গড়ে দুইশত ট্রাক চলাচল করে এই সড়কে। এই ধরনের একটি সম্ভাবনাময়, জন আকাঙ্খিত প্রকল্প অযৌক্তিক অজুহাতে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা সৃষ্টি হওয়ায় প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষ আশাহত।
এনিয়ে জকিগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মরহুম আফতাব হোসেন চৌধুরী কয়েছ এর নেতৃত্বে বিয়ানীবাজার এবং জকিগঞ্জ দুই উপজেলার স্থানীয় অধিবাসীরা এরিমধ্য সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রতিবাদ সভা করে কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে
জনকল্যানে গৃহীত এই প্রকল্পের কাজ যেন মুখ থুবরে না পরে তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এরপর বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট জোবের খান, শেওলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ ও শেওলা ইউনিয়ন উন্নয়ন বাস্তবায়ন পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা আক্তার হোসেন খান জাহেদসহ এলাকাবাসী গত ৮ আগষ্ট চারখাই-শেওলা রাস্তা চার লেনে সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার এর হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন ।
এঅঞ্চলের জনসাধারণের প্রত্যাশা কাল বিলম্ব না করে লাখো মানুষের আশা -আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটুক।#
লেখক: সমাজসেবক, সমন্বয়ক -কুশিয়ারা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ ও শেওলা ইউনিয়ন উন্নয়ন বাস্তবায়ন পরিষদ।